প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সম্প্রতি সমসাময়িক রাজনীতি, প্রবীণ নেতাদের গ্রেফতার এবং নিজের অবসর নিয়ে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই ফজলুর রহমান অসুস্থ তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও ওয়ারেন্ট জারির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন:
তোফায়েল আহমেদ: "তিনি এখন মৃত্যুশয্যায়, কিছুই বোঝেন না। এমন একজন মানুষের নামে ওয়ারেন্ট হওয়া দুঃখজনক। তিনি বিগত ১০ বছর শেখ হাসিনা সরকারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানেও ছিলেন না।"
রাশেদ খান মেনন: ৮৫ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেননের জামিন না হওয়া এবং কারাবাস নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ফজলুর রহমান বলেন, "১৯৬২ সাল থেকে যারা দেশের জন্য সব উজাড় করে দিয়েছেন, তাদের কেন এই বয়সে জেলে থাকতে হবে?"
আমির হোসেন আমু: ৮৯ বছর বয়সী মুজিব বাহিনীর অন্যতম এই সংগঠকের কারাবাস নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, "যে দলেরই হোক না কেন, বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা যারা জেলে আছেন, তাদের জামিন দেওয়া উচিত। এটি তাদের পাওনা।"
রাজনীতির মোড় পরিবর্তন নিয়ে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি মমতা ব্যানার্জীর ১৫ বছরের শাসনের উদাহরণ টেনে বলেন, "পশ্চিম থেকে একটি বাতাস আসছে। গ্লোবাল পলিটিক্সে পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, তার প্রভাব এখানেও পড়তে পারে। তাই রাজনীতিতে খুব সাবধানী হওয়া প্রয়োজন।"
নিজের বয়স এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ফজলুর রহমান এক বিরল ঘোষণা দেন:
অবসরের বয়স: বর্তমানে তার বয়স ৭৮ বছর। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ৫ বছর পূর্ণ হলে তার বয়স হবে ৮৩ বছর।
ঘোষণা: ৮৩ বছর বয়সের পর তিনি আর সক্রিয় রাজনীতি করবেন না। বাকি সময়টা 'আল্লাহ-বিল্লা' ও নাতি-নাতনিদের সাথে কাটাতে চান।
কারাগার সংস্কৃতি: তিনি বলেন, "আমি ওই বয়সে আর জেল খাটতে চাই না। এই পলিটিক্যাল কালচার বাংলাদেশে চাই না যেখানে বৃদ্ধ বয়সে নাতি-পুতিদের ফেলে জেলে থাকতে হয়।"
ফজলুর রহমানের এই আক্ষেপ ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি করুণ চিত্র তুলে ধরে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময়ও রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি এক ধরণের মানবিকতা বা বিশেষ মর্যাদা দেখা যেত। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী উত্তাল সময়েও প্রবীণ নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ ছিল।
স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মহানায়কগণ (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেমন তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু বা রাশেদ খান মেনন—তারা দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯০০ সালের সেই স্বাধীনতাকামী চেতনার ধারক ছিলেন এরাই।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর বাস্তবতা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি মানবিকতা ও সুশাসনের প্রশ্নটিও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফজলুর রহমানের বক্তব্য ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে একটি সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির দাবি জানাচ্ছে।
২০২৬-এর প্রেক্ষিত: ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক দমনের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও যদি দেশের প্রবীণ ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জেলের প্রকোষ্ঠে ধুঁকতে হয়, তবে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি কালো দাগ।
ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার সূর্য চিরকাল এক জায়গায় স্থির থাকে না। ১৯০০ সালের সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন যেমন হয়েছিল, তেমনি বর্তমানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও পরিবর্তনের পথে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের এই সাক্ষাৎকারটি মূলত একটি সতর্কবার্তা। তিনি সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক বা ওবায়দুল কাদেরের পরিণতির উদাহরণ দিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিকদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, 'সূর্য আবার উদিত হবে'। ৮৩ বছর বয়সে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি মূলত নতুন প্রজন্মের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার এবং প্রবীণ বয়সে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।
সূত্র: ১. বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বিশেষ সাক্ষাৎকার (মে ২০২৬)।
২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও পরবর্তী রাজনৈতিক বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |